A Blog about Hotel industries stories ,Hindi, Bengali , English , read in this yodi dong blog.

Tuesday, July 16, 2019

motivation psychology

-আজ তিন মাস হয়ে গেল মুম্বাই থেকে দিল্লী এসেছি। কিন্তু চাকরির কোনো বন্দো ব্যাস্ত  করতে পারিনি। ট্যাংটাং করে ঘুরে ফিরে যাদের, বাড়ি থাকি সেখানে চলে আসি। এরা আমার আত্ম্যিও বলে মনে হয় এখনোবধি কিছু বলেনি। হতাশ হয়ে পড়ছি ,কোনো আশা দেখছি না ,মন ভেঙে যাচ্ছে ,কিহলো কে জানে?সব মোটিভেশন কোথায় গেলো ?

তিন বছর ধরে হোটেল ম্যানেজমেন্ট পড়ার পর ,আর অপেক্ষা না করে মুম্বাই চলে গেলাম ,যে হোটেল ক্যাম্পাস থেকে  রিক্রুট করেছে ,সেই হোটেল এ। কিন্তু ওনারা বললেন জয়েনও দেরি আছে কয়েক মাস। ফেরত এলুম দিল্লী তে আমার এই আত্মীয় বাড়িতে। হাওড়া ফেরত গেলুম না। চাকরি চাই একটা। এনাদের বাড়ি থেকে চাকরির  খোজ শুরু করলাম। দিল্লির হিন্দি মাথায় ঢোকে না কিছুতেই। জনক  পুরি থেকে বাস এ উঠলুম, দশ  মিনিট বাদে কন্ডাকটর হাঁকতে থাকলো --অনেক গুলো নাম ,আমার কানে এলো--তবে  পাহাড়গঞ্জ ,পাহাড় গঞ্জ নাম তা কানে আসতেই ,বাস থেকে নেমে  পড়লুম ,কিন্তু পাহাড় গঞ্জ পেলুম না ,পাবো কি করে এটা  তো টেগোর গার্ডেন ,এখন বুঝি কন্ডাকটর বলছিলো পাহাড় গঞ্জ যাবে বলে ,আমার হিন্দির জ্ঞান  সেদিন ডুবিয়ে ছিল আমায় !
https://www.kakolib.com/2019/07/motivation-gupsup.html
motivation psychology

কিন্তু চাকরি পাচ্ছি না কেন ?মা বাবা ,ভাই আমার চাকরির জন্য ভাবছে। আর একটা মেয়ে বসে আছে  হাওড়া তে আমাদের বাড়ি থেকে পনেরো কিলোমিটার দূরে আমার চাকরি পাবার খবর শোনার  জন্য। যখন মুম্বাই এর ট্রেনেচড়ে  ছিলুম,এত লোকের মাঝে চোখের জল ফেলছিলো  তখন ,বাবা ছিলেন সেখানে ,একবার আমায় আর ,একবার ওকে দেখছিলেন। কিছু না বলে টুক করে কামরায় ঢুকে পড়ে ছিলুম। ট্রেন ছাড়তে -বাবা আর তার চোখে জল দেখে ছিলুম। 

কিন্তু চাকরির  কি হবে রে ভাই ?হোটেল এর চাকরি গেল কোথায়?দুপুরের  রোদে হাঁটা রাস্তায় চলি উত্তম নগর  পর্যন্ত। রিক্সা ওয়ালা ,অটো ওয়ালা দের  সঙ্গে গল্প করি। শেষে ঠিক করি অটো চালাবো। লাইসেন্স এর জন্য টাকা চাই ,হাজার টাকা ! চিঠি লিখেই পাঠালুম --অটো চালাবো দিল্লী তে ,লাইসেন্স করবো হাজার টাকা পাঠাও। উত্তর এলো -অটো চালাবে বলে দিল্লী তে আছো ?এখানে এস আমাদের সামনে অটো চালাবে ,অটো কিনে দেয়া হবে তোমায়। তবে তিন বছর ধরে স্বপ্ন গুলো যে দেখলে সেগুলোর জন্য কোনো চেষ্টা করেছো কি? এটা  কি মোটিভেশনাল ডায়ালগ না কি ?না হলে মাথার মধ্যে এই কথা গুলো  ঘোরে কেনো।

সত্যি তো চেষ্টা তো করিনি ,শুধু দিল্লী এসে বসে আছি ,আর এক আধ দিন কন্সালটেন্সি গুলিতে যাচ্ছি। হিন্দি বুঝতে নাই পারি ,যারা কানে শুনতে পায়  না তারা কি করে ?আমি ওদের হিন্দি না বুঝলেও ইশারা তো করতে পারি বা হিন্দি ভাঙা হলেও বলতে পারি। শুরু করলাম প্রফেশনাল লাইফ এর সুরুয়াত লড়াই। বাস এ উঠে কান পেতে শুনি কন্ডাকটর এর কথা। পরিস্কার হতে থাকে আমার হিন্দি উচ্চারণ। বুঝতে পারি ধীরে ধীরে ওদের উচ্চারণ।

সঙ্গে সি .ভি. নিয়ে রাজৌরি গার্ডেন এর হোটেল এর ব্যাক অফিসে ঢুকি। এক্সকিউজ  মি এ টা আমার বায়ো ডাটা ম্যানেজার সাব ক দিজিয়ে,মে wait  কার রাহা হু। ডাক আসে ভেতর থেকে ,স্যার কত গুলি মৌখিক প্রশ্ন করেন ,আমি আগে সত্যি তা বলে দি,স্যার দিল্লী হিন্দি উচ্চারণ বুঝতে অসুবিধা হয় ,এক টু ধীরে যদি বলেন ,অনুরোধ টি কাজ দেয়। ট্রেড ট্রায়াল শুরু হয় আমার। মেনু সেট করি ,খাবার বানিয়ে জি.এম ,এফ এম বি এবং শেফ ফুড টেস্ট করেন আমার। সিলেক্ট হয়ে গেলুম আমি। ফুড ট্রায়াল চলেছিল চার ঘন্টা ধরে। যখন চাকরির এপয়েন্টমেন্ট লেটার নিয়ে বাড়ি এলুম ,তখন রাত এগারো টা  বাজে। এরা পুলিশ এ খবর দেয়ার জন্য রেডি হচ্ছিলেন  !

আমার হোটেল ম্যানেজমেন্ট  পড়া এর টাকা দিয়ে ছিলো , বড়ো  হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়ে ছিল যে ,যে বলে ছিল আমায় অটো কিনে দেবে -তার সামনে চালাতে হবে বলে ছিলো। সেই এখন আমাদের সংসারের ম্যানেজার ,তবে  ম্যানেজমেন্ট করেনি ,কারণ দুজন ম্যানেজার এক সঙ্গে থাকতে  পারে না বলে।


মোটিভেশনাল স্টোরি এটা  দিয়েই শুরু করলাম , ভালো লাগলো কিনা জানান ?


















No comments:

Post a Comment