Wednesday, October 2, 2019

Navaraatri, Durga pujar maja ar goppo

https://www.kakolib.com/2019/10/navaraatri-durga-pujar-maja-ar-goppo.html নবরাত্রি, দুর্গা পুজার মজা আর গোপ্পো

এবার দূর্গা পূজাতে ' পুরানো সূর্য' হবে সিদ্ধেশ্বরী তলায়। সুতরাং সাজ সাজোরব পড়ে  গেল আমাদের  বাড়িতে। মানে পূর্ব পাড়ার 'গোপাল ভবনে '.  এটি একটি জয়েন্ট ফ্যামিলি। এ বাড়ির মেজো বাবু ,নাট্য প্রেমী ,অভিনেতা ও নাট্যকার। স্বভাবত নিজে যা পারেন নি (সিনেমাতে অভিনয় )তা উনি ওনার দুই সাবালক ছেলে কে   করার স্বপ্ন দেখছেন ,দুটি সন্তান কেই-অভিনেতা রূপে প্রতিষ্ঠিত করতে এই নাটক পুরাতন সূর্য তে ,তাই দুই ছেলে কে মুখখো অভিনেতা হিসাবে নিয়েছেন। আমরা বড়ো  পক্ষের দুই ভাই ছিলুম লাজুক ও মুখ চোরা ,তাই কোনো চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ পাই নি। তাতে অবশ্য আমরা দুই ভাই বেঁচে গেলাম। 

দূর্গা পূজার সপ্তমীতে মঞ্চে নাটকটি মঞ্চস্থ হবে। মেজো কাকা নাট্য পরিচালক আর তাঁর বন্ধু মধুসূদন কাকা হলেন সহ পড়ি চালক। দুজনেই  অফিস থেকে বাড়ি চলে আসেন আজ কাল তারা তাড়ি। আমাদের সদর ঘরে চলে নাটকের রিহার্সাল। রাস্তার ধরে সদর ঘর। উৎসুক দর্শক এর ভিড় লেগে থাকতো। মুহুর মুহু চা আর ভাজা ভুজি তৈরি হতে থাকতো ,সন্ধ্যা থেকেই। আমার দুই অভিনেতা ভাইয়ের খাওয়া  দাওয়া একদম বেঁধে দিলেন মেজো কাকা। ঠান্ডা খাওয়া বন্ধ পুরো। আমরা দুই  নন -অভিনেতা ভাই যখন কুলফি খেতুম ,তখন অভিনেতা ভাই দুটি করুন ভাবে   বলতো-"দাদা ,একটু দেনা ,খাই। ....."'ওরে বাবা!মেজো কাকা মেরে ফেলবে আমাদের ,কটা দিনতো আর ভাই ,একটু সহ্য কর'। 

মেজো কাকা ছিলেন ভয়ানক রাগী মানুষ। বাবা বলতেন -মেজটা একটু রাগ চটা ,ওকে না খেপালেই হয় ,কিন্তু কেউ কি আর সাধ করে খ্যাপাটে যায় ?ওটাতো হয়েই যায় আপনা আপনি ,আর তখন মেজো কাকার যে কি রূপ ,আমরা কাঁপি ভয়ে ঠক ঠক করে ,মেজো কাকা কাঁপেন রাগে ঠক ঠক করে !কে জানে  কেন ?কাকা তোত্লা হয়েযান তখন। সে এক অদ্ভুত অবস্থা হয় ওনার !মেজো কাকার   বিয়ের সময় ,শালীরা  কান মুলে দিয়ে ছিলো ,উনি তারপর কোনো দিন আর শশুর বাড়ি যাননি। আমার মা  কে ছাড়া কাও  কে আর ভয় উনি পাননা। মা কে 'আপনি' বলে কথা বলতেন। মা কিছু বললে তা অক্ষরে অক্ষরে মানতেন ,বলতেন বৌদি আছেন তাই আমরা আছি ,না হলে কোথায় যে ভেসে যেতুম আমরা।

অভিনয়ের রাত্রে :আমরা দুই ভাই খুবই ব্যাস্ত। অভিনেতাদের জন্য চা ,মিশরীর টুকরো,সঙ্গে আদা টুকরো,নিয়ে ঘুরছি ওদের গলা পরিষ্কার  রাখার জন্য। মা,কাকিমারা এসে বসে গেছেন সতরঞ্চির উপর। দর্শক ভোরে গেছে বসার জায়গায়। ঘোষণা  চলছে মাইক  এ। নাটক শুরু। পর্দা উঠলো ,সামনে থেকে আওয়াজ শোনা  গেল -এই পাঁচু এদিকে  রে। ...আমার ভায়েদের চেনাই যাচ্ছে না ,এক মুখ দাড়ি,ধুতি পরে পুরো বদলে গাছে। কাকা উইংস এরপাশে  দাঁড়িয়ে আছেন।মধু কাকা কাকার পাশে দাঁড়িয়ে প্রম্প্ট করছেন। উনিও সেজে আছেন ,বয়স্ক গ্রামবাসীর। 

আমার ছোট ভাইটা মেন্ পার্ট  নিয়েছে কিন্তু ডায়লগ মুখস্ত  নয় ,মধু কাকা উইংস এর পাস থেকে সংলাপ সাপ্লাই দিচ্ছেন। ভাই মাঝে মধ্যেই উইংস ধরে সাড়ে আসছে সংলাপ সোনার জন্য ,মেজো কাকা তেড়ে তেড়ে যাচ্ছেন ওর দিকে -শালা একটা ডায়লগ মুখস্ত করেনি। এতে ভাই ভয়ে দূরে সরে যাচ্ছে বটে  কিন্তু আরও ঘাবড়ে যাচ্ছে বোঝা যায়। শেষ অবধি কি হবে কে জানে ?ভয়ে নাটকে মন দিতেই পারছি না। মধু কাকা ভাই এর সাথে অভিনয় করছেন মঞ্চে। যেমনি গলার জোর ,তেমনি অভিনয় দক্ষতা। স্টেজ কাঁপিয়ে দিলেন ,হাততালির ঝড় বয়ে গেলো। মধু কাকা আবার  এসে সংলাপ বলছেন --

কিন্তু একই ভাই বলছে না কেন,ওর সঙ্গের অভিনেতারাও চুপ করে গেছে ,সবাই দাঁড়িয়ে গাছে মঞ্চে। ঠাকুর আমার ভাই কে সংলাপ মনে  করিয়ে দাও ,যাঁরা মনে এলেন তাদের কাছেই আবেদন রাখলুম যাতে ভাইয়ের সংলাপ মনে পরে যায় ,কিন্তু ভাই আর কিছুবলে না ,আসোলে মধু কাকা ওর উল্টো দিকে চলে গেছেন তাই সংলাপ শুনতে পাচ্ছেনা ,বলবে কি করে। এদিকে মেজো কাকা রেগে উঠেছেন ,দাঁত কির্ মির করে বলছেন -আয় ,এদিকে আয় ,তোর নাটক করা ঘোচাচি আমি ?পারলে উনি মঞ্চের ভিতরে ঢুকে পড়েন। আর মধু কাকা তত আদর করে বলছেন -'বলনা ,বলনা বাবা ভয়ের কি ,আমি তো আছি'পুরানো সূর্য কেটে গিয়ে আবার নতুন  সূর্য উঠবে'--

মঞ্চে কাকার ভয়ে ভাই বলছে -পুরানো সরষে বেটে  ........মেজো কাকা চেচিয়ে বলেন' ধরতো শালা ,  শুওরের ........কাকা এদিকে বললেন আর আমার ভাই মঞ্চের উল্টো দিক দিয়ে ঝাঁপ মারলো  ....তারপর মেকআপ শুদ্ধ দৌড়  দিলো, .পাই পাই করে। গভীর রাত্রে আমি আমার নিজের ভাই আর ছোট কাকা আমার অভিনেতা ভাই কে উদ্ধার করে আনি দুইল্যা মাঠের  মাঝ খান থেকে। ...নভরাত্রির আজ সপ্তমী কিন্তু ভাই এর জীবনে অভিনয়ের দূর্গা পূজার  দশমী আজ হয়ে গেল.


0 Comments: