Tuesday, April 14, 2020

Real story of a young man life

     Real story of a young man life /এক যুবক জীবনের বাস্তব গল্প




এটি একটি  বাংলা গল্পের  শুভারম্ভ। এর আগেও কত গুলি বাংলা গল্প আমি লিখে ছি। কিন্তু আজ আমি যা লিখবো সেটা একদম বাস্তব  এবং  ভীষণ সত্য ঘটনা।  আমার  নিজের চোখে দেখা  এবং আমি নিজেও  এই ঘটনার  সঙ্গীও বটে। আমাদের গ্রামের একটি ছেলের  বাস্তব গল্প/রিয়েল স্টোরি অফ এ ইয়ং ম্যান লাইফ। 

নিতাই মুখার্জী আমাদের গ্রামের ছেলে ,দেখতে সুন্দর ,কোঁকড়া  চুল তার মাথায় ,ফর্সা টুক টুকে  তার গায়ের রং। রীতি মতো  ব্যায়াম করা পেটানো চেহারা তার ছিল। গল্ ভর্তি হাঁসি ছিল সবসময়। আমার বাবা ওনার সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। আমি ছিলুম রোগ পটকা ,নিতাই দার কাছে ভর্তি করিয়ে বাবা বলে ছিলেন-"নিতাই, ছেলেটার শরীরটা গড়ে  দে ভাই ".নিতাই দা আমার বাবার সাথে চাকরি করতো ,তাই না বলে নি। ওনার ব্যায়াম ক্লাবে ভর্তি হয়ে গেলুম। 

শুরু হয়ে ছিল আমার শরীর চর্চা ,নিতাই দার  কাছে। কিন্তু  ম্যালেরিয়া  রোগ ভোগা  এই কাঠামোয় মাস  লাগানো বড্ডো মুশকিলের ছিল। হুপিং কাশি ,ম্যালেরিয়া ,আমাশা কিছুই বাকি দি নি  আমি ,এই কৈশোর কালেই তাদের  বাস আমার  এই কাষ্ঠ  শরীরে। দুশো ছয়টি হাড়  দেখার জন্য এক্স রে এর কোনো দরকার ছিলোনা ,আমার জামা খুলে নিলেই  দেখতে পাওয়া যাবে !

Real story in India


ভারত বর্ষের  আসল  গল্পো  হলো এখানে স্বাস্থ্য  বড়ো অবহেলিত বিষয়। জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান বস্তু তাই আমরা অবহেলায়  রেখে দি। বিশেষ করে বাংলাতে বাঙালির স্বাস্থ একটি সোনার পাথর বাটি! ১৯৭৬ এর ইয়ং ছেলে মেয়েদের  হাইট আর আজকের ,ইয়ং ছেলে মেয়ের এভারেজ  হাইট এর  তফাৎ বুঝতে  আসা করি অসুবিধা নেই। তাই সেই সময়ের স্বাস্থ্য  আর আজকের ইয়ং গ্রুপ এর স্বাস্থ্য ,কতই না তফাৎ ?


আজকের ভারত বর্ষ  হেলথ কন্সিউস হয়েছে খুবই। তাই ভীষণ স্মার্ট তারা হয়ে উঠেছে।জিম  নামের ট্রেন্ড ডানা মেলেছে ভারত এ। মাল্টি  ভিটামিন  এর ঝামেলা চুকিয়ে এখন ছুটছি আমরা ,মাল্টিজিম ,মাল্টি প্রোটিন এর ট্রেন্ড এর দিকে ,বাই -সেফ  দেখলে পেটের মধ্যে গুড় গুড়  করে ওঠ     ভয়ে.,আমাদের সময়ের শুকনো স্বাস্থ্য  এখন দুকূল  ছাপিয়ে  বেরিয়ে পড়ছে। 


নিতাই দা  একটু বদমাশ ছিলেন অবশ্যই। যেমন -মুরগি চুরি ,পাঁঠা  চুরি করতো। পড়াশুনায় খুব একটা ভালো ছিলোনা। আমরা একই পাড়াতে থাকতুম ,নিতাই দা  বড়ো  দের গ্রুপের  নেতা ধরণের ছিল। একবার প্রচন্ড বৃষ্টি হচ্ছিলো ,সন্ধ্যে বেলা ,বড়রা  পয়সা দিয়ে  তেলে ভাজা আনলো। আমরা আটকে ছিলুম নিতাই দার  ব্যায়াম ঘরে ,আমাদের  হাতে হাতে দিলো ,মুড়ি আর চপ আর নারকোল  এর টুকরো। বাকি অনেক তা যে বাঁচলো নিতাই দা তাতে থুতু ফেলে  দিলো -ব্যাস  বাকিটা একলা খেলো,কেউ আর ওদিকে তাকাই নি আমরা। 




চলুন ফেরা যাক  গল্পে ,নিতাই দা বলতো -'তাপস পেট ভোরে খাবি ,খুব ঘুমাবি ,দেখবি চেহারা কেমন ঝাঁক ঝাঁক করে উঠবে।  আমাদের এখানে আছে  একটি রাজবাড়ী ,খুবই বিখ্যাত। সেই  রাজ্ বাড়ির একটি তোপ  বা কামান ছিল যা ফাটতো  দূর্গা পূজার সময়। বোধন ,সপ্তমী অষ্টমী নবমী আর বিজয়ের দিন,মোট ছয়  বার। কিন্তু সেটা বন্ধ হয়ে গেল সরকারি  আদেশে। ৪ফুটের কামান পড়ে  থাকলো  মন্দির  এ। 

এক গ্রীষ্মের প্রচন্ড  দুপুরে এক কাবাডি ওয়ালা পড়লো নিতাই দার খপ্পরে ,নিতাই দা গম্ভীর ভাবে জিগ্যাসা করে ছিল -লোহা কতোকরে কেজি ?সে দাম বললো ,আর রাজ্ বাড়ির কামান যা পরে ছিল মন্দিরের বাইরে ,নিতাইদা তা বিক্রি করে দিলো  কাবাডি ওয়ালা কে। সে বেচারা একটা ঠেলা গাড়ি ,ছয় ,সাত  টা  কুলি নিয়ে এসে ,কামান তুলতে গিয়ে। ...গ্রামের লোকের হাত মার খেয়ে মরে  আর কি !


Real story with moral

১৯৭৮ এর বন্যার সময় ছিল সেটা। লাগাতার চার দিন প্রচন্ড বৃষ্টি পড়ছিলো। সব কিছু ডুবে গেছিলো। কোথা ,কোথা  থেকে সব লোক এসে পড়লো আমাদের এখানে। বাগনান,কোলাঘাট ,মেচেদা সব ডুবে গেছে। মানুষ হাহাকার করছে দুমুঠো খাবার জন্য। ঘর বাড়ি সব হারিয়েছে হাজার ,হাজার মানুষ।ছোট ছোট বাচ্ছা রা কাঁদে শুধু খাবার জন্য ,মা ,বাবা ঘুরছে  খাদ্য আর মাথা গোজার জায়গা  পেতে। 

আমাদের স্কুল বাড়িতে এনে তোলা হলো প্রায় ১০০ যান কে। বয়স্ক,স্ত্রী,পুরুষ ,শিশু  সব ছিলো। পঞ্চায়েত সদ্যসরা চাল ডাল যোগ করে দিতো ,স্বেচ্ছা  সেবকরা রান্না করতো। দুবেলা অতো গুলো লোক কে খাবার দিতে পাগল হয়ে যাবার জুগাড়। নিতাই দা খাবার বানাতো এত  লোকের ,দুই বেলা। 

এরমাঝে ভূপতি দার মা এর হঠাৎ করে ডায়রিয়া দেখা গেলো রাত থেকে। ভূপাতি বাড়ি ছিল না,আমি গিয়ে ডাক্তার নিয়ে এলুম ,কারণ  আমার বাড়ি থেকে ভূপতি দার , বাড়ি দুটো বাড়ি পরেই। ডাক্তার বাবু বললেন হসপিটালে দিতে হবে ,ও আর এস দেয়া জল খাবে শুধু ,বেশি দেরি হলে কিছু হয়ে যেতে পারে। কিন্তু গাড়ি পাবো কোথায় ?রাস্তায় তো জলে ডোবা। ভূপতি দারা ,ভাই বোনেরা  কাঁদতে শুরু করে দিলো। 

নিতাই দা খবর পেয়ে আমাকে বললো চ তো  দেখি। আমাকে সঙ্গে নিয়ে চলে এলো ভূপাতি দার বাড়িতে। সেদিন স্কুল বাড়ির  রান্না করবে ঋষিদারা, বন্যার্ত দের  জন্য। পাঁচু দার  আম্বাসাডার ভাড়া নিতে গেলুম ,পাঁচু দা বললেন -ভাই আমার গাড়ির সাইলেন্সার এ জাল ঢুকেছে ,বিকালের আগে কিছু করার নেই। 

নিতাই দা বললো -ততক্ষনে জেঠিমা টেঁসে যাবে। দাঁড়া আমি আসছি।....নিতাই দা কোথা  থেকে একটা ভ্যান রিক্সা নিয়ে এলো। তারপর তাতে মাদুর ,সতরঞ্জি পাতলো ,জেঠিমা কে তাতে শোয়ানো হলো ,তারপর হেই টান। আন্দুল থেকে সত্যবালা আই, ডি হাসপাতাল ,দেড়  ঘন্টায় পৌঁছে গেলুম। রোগী ভর্তি নিতাই দা ঝাঁপ করে করেছিল ,কারণ রোগী এনে এনে ওর পরিচয় ছিল খুব। 

সেদিন দেখে ছিলুম সবাই যখন ছোঁয়াচে থেকে বাঁচছিলো ,তখন নিতাই দা যত্ন করে জেঠিমা কে স্ট্রেচারে শোয়ালো ,সাহস দিলো-'জেঠিমা ,ডক্টর বাবু স্যালাইন আর ইনজেকশন দিলেই ঠিক হয়ে যাবে'।রোগী ভর্তি করে একটা সাবান কিনে আমাকে দিয়ে বললো -ভালো করে হাত ধো ,খিদে  পেয়েছে তো  ,চা ঘুগনি মুড়ি খাই। সেদিন নিতাই দার সঙ্গে জীবনে প্রথম দেড়  ঘন্টা পায়ে হেঁটে হাসপাতাল গিয়ে ছিলুম। 





নিউ দিল্লির  জনকপুরী তে থাকি আমরা। মানে আমি ,বৌ আর ছেলে। ৫বছরের ছেলে নিউ কনভেন্টে পড়ে। আমরা বছরে এক বার আসি বাড়িতে। সবাই এর সাথে হৈ  হৈ  করে কটা দিন কাটাই। তারপর আবার সেই বিভুঁই। সেবার এলুম বাড়িতে। সন্ধ্যা বেলা বাজার করে ফিরছিলাম ,আমি আর ভাই ,দেখলুম রাস্তার ধারের মুখার্জী বাড়ির রক ঘিরে লোক দাঁড়িয়ে ,আমি আর আমার ভাই কৌতূহলী  হয়ে  উঁকি মারলাম ,কানে এলো --মাতাল নেতাই তাহলে মরলো ,সালা সমাজের পাপ !

-ভাই, কে নেতাই রে ? কোথায় বাড়ি ?
--চিনতে পারলি না ,নিতাই মুখার্জী রে তোর ব্যায়াম গুরু -
---সেকিরে ,এমনি করে রাস্তার রকে মারা গেলো ,কেন ?